ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেইর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই নতুন নেতৃত্বকে 'ঐশ্বরিক প্রতিশ্রুতি' ও 'জাতীয় মর্যাদার রক্ষাকবচ' হিসেবে অভিহিত করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর শাহাদাতের পর বিশেষজ্ঞ পরিষদের এই সিদ্ধান্তকে ইরানের স্থিতিশীলতার পথে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সুচিন্তিত রায় কেবল একজন নেতা নির্বাচন নয়, বরং এটি ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ইচ্ছার প্রতিফলন। তিনি বলেন, "এই নির্বাচন বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে এবং ইসলামী উম্মাহর ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে।" বিদায়ী নেতার রেখে যাওয়া আদর্শকে সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি জানান, বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মোজতবা খামেনেইর দূরদর্শী নেতৃত্বই হবে ইরানের মূল চালিকাশক্তি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুপক্ষের নজিরবিহীন আস্ফালন সত্ত্বেও ইরান তার কৌশলগত অবস্থান থেকে বিচ্যুত হবে না। সশস্ত্র বাহিনীর দৃঢ় সংকল্প এবং সাহসী যুবসমাজের মেধা কাজে লাগিয়ে ইরান বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তে পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বিশ্বমঞ্চে হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই এই নতুন নেতৃত্বের সার্থকতা ফুটে উঠবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের হাল ধরা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর প্রয়াণের পর গত ৯ মার্চ ভোরে বিশেষজ্ঞ পরিষদ মোজতবা খামেনেইকে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ও সরাসরি বৈরী হুমকির মধ্যেও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে পরিষদ যে ক্ষিপ্রতা দেখিয়েছে, তা দেশটির শাসনতান্ত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। উল্লেখ্য, এই পরিষদ সরাসরি জনগণের ভোটে আট বছরের জন্য নির্বাচিত হয় এবং সর্বোচ্চ নেতার নির্বাচন ও তদারকির গুরুভার পালন করে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বক্তব্যের ইতি টানেন একটি সমৃদ্ধ ও স্বাধীন ইরান গড়ার প্রার্থনা দিয়ে, যেখানে সংহতি ও জনমতের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এক অপরাজেয় রাষ্ট্রব্যবস্থা।