জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত হওয়া ৩০০ মিলিয়ন ডলারের টিপিওয়াই-২ রাডার। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরিয়ে জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এএন/টিপিওয়াই-২’ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে যে, ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কৌশলগত সম্পদটি ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ওই অঞ্চলে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রকাশিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, প্রতিরক্ষা জায়ান্ট ‘আরটিএক্স কর্প’ এর তৈরি এই অত্যাধুনিক রাডারটি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই ইরানি নিশানায় পরিণত হয়। পরবর্তীতে একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা এই ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করেন। ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় এখন দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের সক্ষমতা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ এর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো সতর্ক করে বলেছেন, “এ ধরনের কৌশলগত সম্পদ আমাদের হাতে খুবই সীমিত। থাড ব্যবস্থার এই ক্ষতি কেবল আর্থিক নয়, বরং সামরিক সক্ষমতার এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।”
রাডারটি ধ্বংস হওয়ার ফলে এখন আকাশ প্রতিরোধের মূল ভার পড়েছে ‘প্যাট্রিয়ট’ সিস্টেমের ওপর। কিন্তু প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় উন্নত বা প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে, যা পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম। ফলে এই রাডারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে পেন্টাগনের হাতে নেই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বারুদের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। তেহরান তাদের আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই পাল্টা হামলায় কেবল জর্ডান নয়, বরং কাতারে অবস্থিত ‘এএন/এফপিএস-১৩২’ রাডারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ধারাবাহিক সুনির্দিষ্ট আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন নজিরবিহীন চাপের মুখে। একের পর এক রাডার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার ফলে মার্কিন সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বৈশ্বিক রাজনীতিতে।
বিষয় : জর্ডান রাডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকা ইরান
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
