হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত জলসীমায় ফ্রান্সের দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেছেন, পশ্চিমারা যে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, তা কোনোভাবেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক জোরালো বার্তায় আলী লারিজানি প্যারিসের এই সিদ্ধান্তকে উসকানিমূলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে বলেন, "ইসরায়েল ও আমেরিকা যে যুদ্ধের দাবানল সৃষ্টি করেছে, তা হরমুজ প্রণালীকে কোনো নিরাপত্তা দেবে বলে মনে হয় না।" লারিজানির মতে, যারা আজ নিরাপত্তার বুলি আওড়াচ্ছে, মূলত তারাই এই অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রধান কারিগর।
লোহিত সাগর ও তৎসংলগ্ন জলসীমায় ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ঘোষণাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর পরোক্ষ চাপ হিসেবে দেখছে তেহরান। লারিজানি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট করেন যে, নিরাপত্তা দেওয়ার নাম করে যারা হস্তক্ষেপ করতে চাইছে, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য অঞ্চলের শান্তি নয়, বরং আধিপত্য বিস্তার। তিনি প্রশ্ন তোলেন, লোহিত সাগরে ফরাসি রণতরীর উপস্থিতি কীভাবে হরমুজের মতো স্পর্শকাতর প্রণালীতে স্থিতি আনবে?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার এই বক্তব্য কেবল একটি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পশ্চিমা জোটের জন্য একটি বিশেষ সতর্কবার্তা। লারিজানির এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর ওপর কোনো প্রকার বিদেশি সামরিক নজরদারি বা হস্তক্ষেপ তেহরান বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেবে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে ফ্রান্সের এই সরাসরি জড়িয়ে পড়া জলপথের নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।