লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবাসিক এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহার করছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সোমবার প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে। সংস্থাটি বলছে, জনবহুল এলাকায় এমন রাসায়নিকের ব্যবহার কেবল আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এইচআরডব্লিউ-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারা গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমোর এলাকায় পরিচালিত হামলার বেশ কিছু নিবিড় চিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা যায়, আবাসিক এলাকায় ফসফরাস গোলার আঘাতে অন্তত দুটি বসতবাড়িতে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সংস্থাটির লেবানন বিষয়ক গবেষক রামজি কাইস এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অবৈধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেনেবুঝেই জনবহুল জনপদে এই মরণঘাতী রাসায়নিক ব্যবহার করেছে।"
সাদা ফসফরাস এমন একটি রাসায়নিক উপাদান, যা অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই প্রজ্বলিত হয়ে ওঠে এবং ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উত্তাপ সৃষ্টি করতে পারে। এটি কেবল বাড়িঘর বা কৃষিজমিই ভস্মীভূত করে না, মানুষের শরীরের সংস্পর্শে এলে হাড় পর্যন্ত পুড়িয়ে দেয়, যা নিরাময় করা প্রায় অসম্ভব। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, বেসামরিক জনপদে এই পদার্থের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অথচ ইয়োহমোরের ইসলামিক হেলথ কমিটির পোস্ট করা ছবিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা আবাসিক ভবনের ছাদ এবং সাধারণ যানবাহনে দাউদাউ করে জ্বলা আগুন নেভাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ড জেনেভা কনভেনশনের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে কোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলা ও ফসফরাস ব্যবহার প্রমাণ করে যে, সেখানে ন্যূনতম সতর্কতার বালাই নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধাপরাধের তদন্তে একটি শক্তিশালী দলিল হিসেবে কাজ করবে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা