× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

বন্ধুত্বের আড়ালে ইরানের পিঠে ভারতের বিষাক্ত ছুরিকাঘাত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ০০:৪৫ এএম । আপডেটঃ ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ এএম

গভীর সমুদ্রের নীরব আর্তনাদ। প্রতীকী ছবি

ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম পুনরাবৃত্তি কি তবে ভারত মহাসাগরের নীল জলরাশিতে মঞ্চস্থ হলো? ৬৮০ খ্রিস্টাব্দের ৬ অক্টোবর, ফোরাত নদীর তীরে কুফাবাসীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছিলেন ইমাম হোসেন (রা.)। শতাব্দী পেরিয়ে ২০২৬-এর মার্চে এসে সেই একই ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি যেন দেখল বিশ্ব। একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক মঞ্চে কুফার সেই বিতর্কিত ভূমিকায় আজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি ভারত।

ইরানের নৌ-শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনাস’ কোনো রণসজ্জায় ছিল না। ভারতের আমন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়ে ফিরতি পথে ছিল জাহাজটি। গত বুধবার ভোররাতে শ্রীলঙ্কা উপকূলের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সাবমেরিনের নিখুঁত টর্পেডো আঘাতে তলিয়ে যায় এটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে টর্পেডো ব্যবহার করল পেন্টাগন। নজিরবিহীন এই হামলায় এ পর্যন্ত ৮৭টি নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছে, গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ রয়েছেন আরও অসংখ্য নৌ-সেনা।

ব্রিকস এবং এসসিওতে ইরানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারত। অথচ ভারতের নিজস্ব জলসীমার ঠিক বাইরে একটি ইরানি জাহাজ কীভাবে মার্কিন রাডারের ‘সহজ নিশানায়’ পরিণত হলো—সেই প্রশ্ন এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। সমালোচকদের মতে, কুফাবাসী যেমন হোসাইন (রা.)-কে ডেকে এনে ইয়াজিদের তলোয়ারের মুখে ঠেলে দিয়েছিল, ভারতও কি তেমনি মহড়ার নামে নিমন্ত্রণ দিয়ে জাহাজটিকে মার্কিন টর্পেডোর সামনে অরক্ষিত অবস্থায় ছেড়ে দিল?

ভৌগোলিক সীমানাহীন নতুন যুদ্ধ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের পর মধ্যপ্রাচ্য যখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে, তখন ভারত মহাসাগরের এই আক্রমণ প্রমাণ করে—আধুনিক যুদ্ধ এখন নির্দিষ্ট কোনো মানচিত্রে সীমাবদ্ধ নেই। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দম্ভভরে বলেছেন, "জাহাজটি নিজেকে নিরাপদ ভেবেছিল।" এই দম্ভোক্তির পেছনে মিত্রদের গোপন তথ্য পাচার কিংবা কৌশলী সম্মতির কোনো অন্ধকার অধ্যায় লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।

ইতিহাসের বিচার ও কাল জলরাশি

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী যখন ভাসমান তেলের স্তর আর ধ্বংসাবশেষের মাঝখান থেকে প্রাণহীন দেহগুলো উদ্ধার করছে, তখন তথাকথিত 'কৌশলগত নিরপেক্ষতা'র আড়ালে ভারত রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ। কারবালার প্রান্তর শিখিয়েছিল—সংকটের সময় পিছুটান দেওয়া মিত্রই সবচেয়ে ভয়ংকর। আজ ভারত মহাসাগরের কালো পানিও সেই একই সাক্ষ্য দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বন্ধুত্বের চুক্তিগুলো কি তবে কেবল সুসময়ের বিলাসিতা? সংকটের মূহূর্তে স্বার্থান্বেষী বিশ্ব আজও সেই প্রাচীন 'কুফাবাসী'র অবয়বেই বারবার ফিরে আসছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.