ইরানের সাম্প্রতিক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা বিশ্বচক্ষুর আড়ালে রাখতে কঠোর গোপনীয়তা ও নজিরবিহীন সেন্সরশিপের আশ্রয় নিয়েছে তেল আবিব। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের দাবি অনুযায়ী, হামলার প্রকৃত চিত্র ধামাচাপা দিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দেশটির স্পর্শকাতর ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলছে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
তাসনিম নিউজের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কতজন হতাহত হয়েছেন—সেই পরিসংখ্যান আড়াল করতেই মূলত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো, হামলার পরবর্তী কোনো ভিডিও ফুটেজ যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থায় ছড়িয়ে না পড়ে।
মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই তথ্য আড়ালের প্রচেষ্টাকে ‘নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যে মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, তা জনসমক্ষে এলে সরকারের ওপর যেমন চাপ বাড়বে, তেমনি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেও পিছিয়ে পড়বে দেশটি।
সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক ল্যারি জনসন এই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, “ইসরায়েল এবার যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কল্পনাতীত। আর এই কারণেই তারা প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার ক্ষেত্রে চরম কঠোরতা অবলম্বন করছে।”
অবসরপ্রাপ্ত এই মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার মতে, ইরানের এই আক্রমণটি ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত বিধ্বংসী। তার ভাষায়, “ইরানের নিখুঁত নিশানায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে ভঙ্গুর রূপ ফুটে উঠেছে, তা ঢেকে রাখতেই এখন সামরিক সেন্সরশিপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সামান্য বলে দাবি করে আসছে, তবে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ রোধ করা আসলে কৌশলগত পরাজয় আড়ালেরই একটি চেষ্টা। এই ব্যাপক গোপনীয়তা আসলে ইরানের হামলার কার্যকারিতা সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।