ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সাইয়্যেদ মুজতাবা হুসাইনি খামেনেয়ির নির্বাচনের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে বেইজিং এই নির্বাচনকে ইরানের অভ্যন্তরীণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তেহরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
গত ২৮ এপ্রিল মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনে হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী হুসাইনি খামেনেয়ির শাহাদাত বরণের পর দেশটির সংবিধান অনুযায়ী এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সোমবার ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) এক বিবৃতিতে সাইয়্যেদ মুজতাবা খামেনেয়িকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করে।
এই ঘোষণার পরপরই ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বার্তায় ভ্লাদিমির পুতিন নবনির্বাচিত নেতাকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন:
"আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনি আপনার পিতার মহান উত্তরাধিকার ও অসমাপ্ত কাজগুলো সগৌরবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বর্তমানের এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনি ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হবেন।"
পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরানের প্রতি মস্কোর অকুণ্ঠ সমর্থন ও সংহতি বরাবরের মতোই অটুট থাকবে।
এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টিকে দেশটির নিজস্ব সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বেইজিং পর্যবেক্ষণ করছে যে ইরান সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
চীনা মুখপাত্র জানান, বেইজিং যেকোনো অজুহাতে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ঘোর বিরোধী। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
উত্তাল সময়ে নতুন নেতৃত্ব
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতা এবং পূর্বসূরীর শাহাদাত বরণের মতো এক আবেগঘন ও সংকটময় মুহূর্তে মুজতাবা খামেনেয়ির এই দায়িত্ব গ্রহণ ইরানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। মস্কো ও বেইজিংয়ের দ্রুত এই প্রতিক্রিয়া তেহরানের সাথে বিশ্বশক্তির কৌশলগত বন্ধুত্বের গভীরতাকেই পুনর্নিশ্চিত করছে।