ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে নবনির্বাচিত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নতুন নেতৃত্বের অধীনে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় যেকোনো আত্মত্যাগে প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)-এর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর এই সংহতি প্রকাশকে তেহরানের ক্ষমতার স্থিতিশীলতা ও সামরিক সংহতির এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নবনির্বাচিত নেতাকে ‘জাতির অভিভাবক’ এবং ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, “বিপ্লবী বাহিনী রাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী হাত এবং একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিটি আদেশ পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” আইআরজিসি আরও উল্লেখ করেছে যে, আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনেয়ীর জন্য তারা জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করবে না।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতাবা হোসেইনি খামেনেয়ীর দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেই ইরানের স্বাধীনতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক মর্যাদা সুসংহত হবে। তাদের মতে, এই নেতৃত্বই ইসলামি মূল্যবোধের সুরক্ষা ও দেশের অগ্রগতির ধারাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখবে।
অন্যদিকে, সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফরা তাদের বিবৃতিতে এক নতুন ‘জিহাদি উদ্দীপনা’র ইঙ্গিত দিয়েছেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে:
"আমরা অতীতের চেয়ে আরও শক্তিশালী এবং সুশৃঙ্খলভাবে সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে নবনির্বাচিত নেতার যেকোনো আজ্ঞা পালনে সদা প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবের অর্জনসমূহ রক্ষায় আমাদের এই ত্যাগী মনোভাব অটুট থাকবে।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ সামরিক শাখাগুলোর এই তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় সমর্থন নবনির্বাচিত নেতৃত্বের অবস্থানকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।