× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তেলের বাজার অস্থির, যা বলছেন ট্রাম্প

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৬ পিএম । আপডেটঃ ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৫:০২ পিএম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের অস্থিরতার মাঝে হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের মুখোমুখি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল ‘সাময়িক’ এবং বৃহত্তর নিরাপত্তার স্বার্থে এটি একটি ‘ক্ষুদ্র ত্যাগ’।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করেছেন ভিন্ন আঙ্গিকে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি চিরতরে নির্মূল করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব শান্ত ও নিরাপদ হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, "যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব নিরাপত্তার স্বার্থে তেলের দাম কিছুটা বাড়া খুব বড় কোনো বিষয় নয়। যারা এর নেতিবাচক দিক নিয়ে অতিমাত্রায় চিন্তিত, তারা বাস্তববর্জিত।" তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হওয়া মাত্রই তেলের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে এবং দাম আগের চেয়েও কমে যাবে।

রেকর্ড ভাঙছে জ্বালানি তেলের বাজার

প্রেসিডেন্টের আশ্বাসের বিপরীতে বাজারের চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর তথ্যমতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২ সালের পর একক কোনো সময়ে সর্বোচ্চ উল্লম্ফন।

সোমবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.০৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬.৮ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ১০৬.১৭ ডলারে। উল্লেখ্য, দিনের শুরুতে এটি এক পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি ১১১.২৪ ডলারে স্পর্শ করেছিল। গত মাত্র এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম ৩৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল ও মার্কিন ত্রিমুখী সংঘাতের ফলে বিশ্ব তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ 'হরমুজ প্রণালী' দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা সরবরাহকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেলের চালান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, শিপিং তথ্য বলছে তা হরমুজ প্রণালীর শূন্যস্থান পূরণে পর্যাপ্ত নয়। এএনজেড-এর জ্যেষ্ঠ পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স সতর্ক করে বলেছেন, "যদি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে উত্তেজনার কারণে তেলের কূপ বন্ধ করতে হয়, তবে সংঘাত থামার পরও বাজার স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। ফলে উচ্চমূল্যের এই ধাক্কা ভোক্তাদের দীর্ঘদিন সইতে হতে পারে।"


তথ্যসূত্র: দ্য হিল 


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.