মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন প্রকম্পিত ইরানের ‘ট্রু প্রমিজ-৪’ অভিযানের গর্জনে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, অভিযানের ২৮তম ধাপে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলোতে শত্রুপক্ষের ওপর হামলার তীব্রতা আরও বহুগুণ বাড়ানো হবে।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে, আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তেল আবিব, বীর আল-সাবাহ এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আল-আযরাক বিমান ঘাঁটিতে এই সুনির্দিষ্ট আঘাত হেনেছে।
‘আমিরুল মুমিনিন (আ.)’ সাংকেতিক নামে পরিচালিত এই অভিযানে ড্রোন এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের এক সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন করেছে ইরান। বিশেষ করে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বিমান পরিচালনা কেন্দ্র ‘আল-আযরাক’ ঘাঁটিতে কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর আঞ্চলিক অপারেশনের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এখানে আঘাত হানা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিব এবং বীর আল-সাবাহ সামরিক ঘাঁটিতে তাদের অত্যন্ত ভারী ও বিধ্বংসী ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। কয়েকশ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যভেদে নিখুঁত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি তেহরানের।
আসছে আরও বড় আঘাত
আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে এই হামলা কেবল শুরু। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আগামী সময়গুলোতে হামলার পরিধি ও ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি আঘাতের খবরাখবর সময়মতো দেশবাসীকে জানানো হবে।”
তেহরানের এই অনড় অবস্থান এবং একের পর এক সফল হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব বর্তমানে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়ন করছে।