ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে এক ঐতিহাসিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনির প্রতি তাদের অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করেছে। তেহরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে এই ঘটনাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য উত্তরাধিকার নিশ্চিত করার একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরেই মোজতবা খামেনিকে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে আইআরজিসির মতো শক্তিশালী এবং নীতিনির্ধারক বাহিনীর এই প্রকাশ্য সমর্থন সেই জল্পনাকে এখন বাস্তবতার রূপ দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে অভ্যন্তরীণ স্থায়িত্ব বজায় রাখতেই আইআরজিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি গত দুই দশক ধরে ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। আড়ালে থেকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর প্রভাব সুবিদিত। আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক এবং কট্টরপন্থি আদর্শের প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থান তাঁকে রক্ষণশীল শিবিরের প্রথম পছন্দে পরিণত করেছে।
আইআরজিসির এই আনুগত্য প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব বিস্তারের যে নীতি বর্তমানে চলমান, মোজতবার নেতৃত্বে তা আরও কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তেহরানের এই অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদল পর্যবেক্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ (সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক পর্ষদ) যখন উত্তরাধিকারী নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, তখন আইআরজিসির এই সমর্থন সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস হিসেবে কাজ করবে। এটি কেবল একটি আনুগত্য প্রকাশ নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যতের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।