ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবানন এখন এক বিষণ্ণ মৃত্যুপুরী। গত এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশটিতে অন্তত ৩৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮৩ জনই নিষ্পাপ শিশু। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি আজ রবিবার এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতসহ লেবাননের বিশাল জনপদজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
৯ দিনে গড়ানো এই সংঘাতের ভয়াবহতা কেবল লেবাননেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ২৩০ জন এবং ইসরায়েলে প্রায় এক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কুয়েত ও এর আশপাশে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬ জন মার্কিন সেনা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠ পর্যন্ত এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ।
রবিবার সকালে তেহরানের একটি তেল ডিপোতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৪ জন নিহত হয়েছেন। আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ইরানের রাজধানীর আকাশ। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের দাবি, সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত স্কুল ও হাসপাতালসহ প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ধূলিসাৎ হয়েছে।
এদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ‘জল যুদ্ধ’ বা ওয়াটার ওয়ারের নতুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের কেশম দ্বীপে পানি শোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পাল্টা অভিযোগে বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের একটি প্ল্যান্টেও হামলা চালিয়েছে তেহরান। মরু দেশগুলোর জন্য জীবন রক্ষাকারী এই অবকাঠামো ধ্বংস হওয়াকে মানবিক সংকটের নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুদ্ধের প্রভাব আছড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। বিমান চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি তেলের বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করেছেন যে, তেল উৎপাদন ও রপ্তানি এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে ইরাকসহ আঞ্চলিক দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের তেল উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে।