× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ডোভারে ফিরল ছয় মার্কিন সেনার নিথর দেহ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৩ এএম । আপডেটঃ ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ এএম

ডিলাওয়ারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার কফিন গ্রহণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পতাকায় মোড়ানো প্রতিটি কফিনকে তিনি সামরিক কায়দায় স্যালুট জানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ছবি: রয়টার্স

ডিলাওয়ারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে তখন পিনপতন নীরবতা। কার্গো বিমানের পেট চিরে একে একে বেরিয়ে আসছে মার্কিন পতাকায় মোড়ানো ছয়টি কফিন। গত সপ্তাহে কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ছয় মার্কিন রিজার্ভ সেনার এই ‘মরদেহ প্রত্যাবর্তন’ অনুষ্ঠান কেবল শোকের আবহ নয়, বরং ওয়াশিংটনের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট এই দৃশ্যকে ‘যুদ্ধের অন্ধকার দিকের স্মারক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের বিশ্লেষণ মতে, এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক চরম অস্বস্তিকর বার্তা, যেখানে তাঁর শুরু করা যুদ্ধ এখন এক অনিশ্চিত চোরাবালির দিকে মোড় নিচ্ছে।

যুদ্ধের মন্দ দিকের মুখোমুখি ট্রাম্প

ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের লাশ প্রত্যাবর্তন: যুদ্ধের মন্দ দিকের সঙ্গে ট্রাম্পের মুখোমুখি হওয়া’ শীর্ষক নিবন্ধে লিখেছে—এই ছয়টি কফিন আসলে একটি তীব্রতর হতে যাওয়া সংঘাতের সূচনা পর্ব মাত্র। পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা মার্কিন জনগণ ও প্রেসিডেন্টের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও মানবিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিটি কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে সামরিক কায়দায় স্যালুট প্রদান করেন। কফিনগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সংক্ষেপে বলেন, “এটি (যুদ্ধ) সম্পন্ন করার প্রতি আমি বিতৃষ্ণ, কিন্তু এটি যুদ্ধেরই অনিবার্য অংশ।” ট্রাম্পের এই সংক্ষিপ্ত ও কিছুটা নিরুত্তাপ মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক তাঁর অভ্যন্তরীণ দোদুল্যমানতা হিসেবেই দেখছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প নিজেই এক ধরনের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছেন। গত শনিবার তিনি দাবি করেছিলেন এই যুদ্ধ হবে ‘সংক্ষিপ্ত’ এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কার কথাও উসকে দিয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই বলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছে।

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, বর্তমান রণকৌশল অব্যাহত থাকলে এই কফিন মিছিল কেবল দীর্ঘতরই হবে। সমালোচকরা মনে করছেন, মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস এবং সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আরও কঠিন প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

এখন দেখার বিষয়, ডোভারের এই ছয়টি কফিন হোয়াইট হাউসের যুদ্ধাংদেহী অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে কি না, নাকি এটি আরও বড় কোনো মানবিক বিপর্যয়ের সোপান হয়ে দাঁড়ায়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.