ডোভার বিমানঘাঁটিতে কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার কফিন গ্রহণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই নতুন স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক করার দাবি করেছে ইরান। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘সস্তা প্রতারণা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি লিখেছেন, “আমেরিকানরা দাবি করছে ওই সেনারা যুদ্ধে নিহত হয়েছেন, কিন্তু আমাকে জানানো হয়েছে তারা আসলে আমাদের হাতে বন্দি। সত্য বেশিদিন লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।”
লারিজানির এই দাবির পরপরই রণচণ্ডী মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এই দাবি খণ্ডন করে বলেন, “ইরানি শাসকগোষ্ঠী মিথ্যা ছড়াতে ও বিশ্বকে বিভ্রান্ত করতে মরিয়া। এটি তাদের অপপ্রচারের একটি নগ্ন উদাহরণ মাত্র।” ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-ও এই দাবিকে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে, রণক্ষেত্রের উত্তাপ ছাপিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে। গত ১ মার্চ কুয়েতের বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ গতকাল শনিবার নিজ দেশে এসে পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থেকে নিহত যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নিহতরা হলেন— ডেকলান কোডি, জেফরি ও’ব্রায়েন, কোডি খোরক, নোয়া টিটজেনস, নিকোল আমোর ও রবার্ট মারজান। এ সময় ট্রাম্প আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি দিন। আমাদের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি গর্বিত, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছেই। ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার মতে, এক সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ১৮০ জনই শিশু। বিশেষ করে মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ এই হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প পাল্টা ইরানকেই দায়ী করেছেন।
বিদেশের মাটিতে যুদ্ধের ময়দানে ট্রাম্প ‘বিশাল জয়ের’ দাবি করলেও নিজ দেশে তিনি কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে তাঁর কট্টর সমর্থক বা ‘মাগা’ গোষ্ঠী এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মেগান কেলি ও মারজোরি টেইলর গ্রিনের মতো কট্টরপন্থী নেতারাও ট্রাম্পের ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন।
এনপিআর ও ম্যারিস্টের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৫৬ শতাংশ মার্কিনী এই যুদ্ধের বিপক্ষে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি পদাতিক সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। তিনি মনে করেন, এই যুদ্ধ আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
