মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার ইসরায়েল ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রবিবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেনাবাহিনী (আর্তেশ) জানিয়েছে, তাদের বিমান ও নৌবাহিনী সম্মিলিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে এই সুসংগঠিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
ইরানি সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, একঝাঁক অত্যাধুনিক ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ ইসরায়েলের হাইফা ও তেল আবিবের কৌশলগত অবস্থানগুলোতে আঘাত হেনেছে। একই সময়ে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র ‘ক্যাম্প আরিফজান’-কেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ড্রোনগুলো সফলভাবে ক্যাম্প আরিফজানের গোলাবারুদ ডিপো, সরঞ্জাম গুদাম, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সংকেত তথ্য সংগ্রহের (সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স) কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি সেনাদের আবাসন এলাকাগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রতিশোধমূলক এই অভিযানের সমান্তরালে ইরান তার আকাশসীমা রক্ষায় বড় সাফল্যের দাবি করেছে। রবিবার সকালে ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় মারকাজি প্রদেশে ইসরায়েলের একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট।
বর্তমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্মিলিতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরান জুড়ে চালানো সেই সব বিমান হামলায় ব্যাপক বেসামরিক ও সামরিক হতাহতসহ অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ হিসেবে দখলকৃত অঞ্চল এবং আঞ্চলিক দেশগুলোতে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঢেউ নিক্ষেপ করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুয়েতের মতো আঞ্চলিক দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত করার ঘটনাটি সংঘাতকে আরও বৃহৎ পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।