ইরানের ওপর পরিচালিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে তেহরান। গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত এই ‘প্রতিশোধমূলক’ অভিযানে দুই শতাধিক মার্কিন সেনা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
শনিবার ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরা হয়।
সদর দপ্তরের মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর আওতায় এই সুসংগঠিত হামলা চালানো হয়। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কেবল প্রাণহানিই ঘটেনি, বরং এই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন ৫ম নৌবহরে হামলায় ২১ জন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধফরা বিমান ঘাঁটিতে পরিচালিত হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারেও সফল হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং জেষ্ঠ্য সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এক ‘ভয়াবহ’ সামরিক অভিযান শুরু করে। ইরানি ভূখণ্ডের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় চালানো সেই হামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি নাগরিক হতাহত হন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য সামরিক ইউনিট সম্মিলিতভাবে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর, যা ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অভিযানের প্রধান সমন্বয়কারী, এই পাল্টা হামলার তদারকি করছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এক ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) থেকে এখনো এই হতাহতের সংখ্যার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, তবে ইরানের এই দাবি ওয়াশিংটনের ওপর বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।