ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও সামরিক শক্তি সম্পর্কে শত্রুপক্ষের অনুমান সম্পূর্ণ ভুল বলে দাবি করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, পশ্চিমারা যে ‘ভুল হিসেব-নিকেশ’ করছে, তার চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার জন্য তেহরান এখন যুদ্ধের ময়দানে পুরোপুরি প্রস্তুত।
রোববার ইরানের খাতামুল আম্বিয়া (সা.) ঘাঁটির কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদে এলাহি এই কড়া বার্তা দেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মেজর জেনারেল এলাহি বলেন, “শত্রুরা সবসময়ই আমাদের শক্তিকে অবমূল্যায়ন করার ভুল করে আসছে। আমরা বারবার বলেছি, জবাব কেবল শ্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এর প্রতিফলন দেখা যাবে রণাঙ্গনে। আশা করি, তারা এতদিনে বুঝতে পেরেছে যে ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা আপসহীন।”
ইরানের বর্তমান সমরসম্ভারকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী দাবি করে এই শীর্ষ কমান্ডার বলেন, “আমাদের বর্তমান অস্ত্রভাণ্ডার আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত, নিখুঁত এবং বিধ্বংসী। অতীতের যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতাকে আমরা আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করেছি।”
তিনি বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রায়ই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য দাবি করে। কিন্তু তাদের সেই দাবি যে সত্য নয়, তা প্রমাণের জন্য যুদ্ধের ময়দানেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো গুনে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শহীদ কমান্ডারদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জেনারেল এলাহি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য এখন উচ্চ মনোবল নিয়ে রণাঙ্গনে সক্রিয়। বিশেষ করে বরেণ্য সামরিক কমান্ডারদের ‘পবিত্র রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়া এবং শত্রুকে তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত করতে না পারা পর্যন্ত এই লড়াই জারি থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও তেহরানের ওপর অব্যাহত চাপের মুখে ইরানের পক্ষ থেকে আসা এই বার্তাটি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য এক প্রচ্ছন্ন সামরিক সতর্কবার্তা।