ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আর্থিক বোঝা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রারম্ভিক পর্যায়েই যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা খোদ মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিযানের প্রথম চার দিনেই সামরিক খাতে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অবিশ্বাস্য ১১০০ কোটি ডলারে।
ইরানের মেহের বার্তা সংস্থা ও পার্স-টুডে প্রকাশিত তথ্যমতে, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন দেশটির কংগ্রেসের কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ব্যয়বহুল ‘মিসাইল ইন্টারসেপ্টর’ বা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ওয়াকিফহাল সূত্রগুলো দাবি করছে, কেবল বর্তমান চাহিদা মেটানোই নয়, বরং আগামী বছরগুলোতে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কথা মাথায় রেখে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন। কংগ্রেসের কাছে পাঠানো প্রস্তাবে সমরাস্ত্রের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চার দিনে ১১০০ কোটি ডলার ব্যয়ের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য কতটা ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।