মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে ইহুদিবাদী ইসরায়েল বা আমেরিকাকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদের কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে যারা এই সংঘাত থেকে দূরে থেকেছে, তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান।
ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা ও পার্স-টুডের বরাতে জানা যায়, আজ শনিবার (৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে জেনারেল শেকারচি ইরানের সামরিক রণকৌশল পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক তৎপরতার উৎস যেখানেই হোক না কেন, আমরা সেখানেই পাল্টা আঘাত হানব। বিশেষ করে অপরাধী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসগোষ্ঠীর ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোকে আমরা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করছি এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”
জেনারেল শেকারচি তাঁর বক্তব্যে প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রতি ইরানের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা করা। আমরা শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি যাতে কোনো প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি না হয়।”
তিনি আরও জানান, “যেসব দেশ আমেরিকান বা ইহুদিবাদীদের আমাদের বিরুদ্ধে ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি, তাদের ওপর কোনো আঘাত করা হয়নি। কিন্তু যারা শত্রুকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে, তারা আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।”
বিবৃতিতে জেনারেল শেকারচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ইরান কোনো প্রকার ছাড় দেবে না। আমরা ইতোমধ্যে তাদের সমরকাঠামোতে শক্তিশালী আঘাত হেনেছি এবং শত্রুর দর্প চূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য মূলত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ, যাতে তারা ওয়াশিংটনের সামরিক বলয় থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখে। একইসঙ্গে এটি প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে একটি আঞ্চলিক ঐক্যের প্রচ্ছন্ন আহ্বান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।