ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের দাবিকে নজিরবিহীন কঠোরতায় প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘আত্মসমর্পণের’ আহ্বানকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ইরানি শীর্ষ কর্মকর্তারা একে ‘হাস্যকর ও ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আব্বাস আসলানি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
আব্বাস আসলানির মতে, ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যগুলো তেহরানে কোনো পরিবর্তনের সুর তোলার পরিবর্তে বর্তমান নীতিতে আরও অটল থাকার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর সাংবিধানিক এখতিয়ার। এখানে বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। ট্রাম্পের এ ধরনের দাবিকে স্রেফ রাজনৈতিক প্রলাপ হিসেবে গণ্য করে উপহাস করেছেন ইরানের নীতি-নির্ধারকরা।
কূটনৈতিক এই বাদানুবাদের সমান্তরালে সামরিক উত্তজনাও তুঙ্গে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট আজ রাতে ইরানে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমন এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মাঝেও তেহরানের অবস্থানে এক ধরণের অবিচল আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা ওয়াশিংটনের কোনো ধরণের চাপ বা সমঝোতার প্রস্তাবের কাছে মাথা নত করার পরিবর্তে নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সংকেত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের চরমপন্থী অবস্থান এবং ইরানের পাল্টা কঠোর মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তেহরানের বর্তমান নীতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারা আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরণের নমনীয় আলোচনায় বসার পরিবর্তে নিজেদের কঠোর অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকে কেন্দ্র করে ইরানের অভ্যন্তরে জাতীয়তাবাদী ঐক্য আরও সুদৃঢ় হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের প্রাথমিক কৌশলের সম্পূর্ণ বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা