× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি

মার্কিন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাতে ইরানকে ‘গোয়েন্দা তথ্য’ দিচ্ছে রাশিয়া

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৭ এএম । আপডেটঃ ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৩২ এএম

বাহরাইনের জুফাইরে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের পাশে ইরানের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নতুন ও বিপজ্জনক সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করতে ইরানকে অত্যন্ত সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে নেপথ্যে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। মার্কিন প্রশাসনের তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত এই দাবি সত্য হলে, এটিই হবে চলমান যুদ্ধে আমেরিকার কোনো প্রধান পারমাণবিক প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ার প্রথম সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সংঘাত শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার উন্নত স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক স্থাপনার নিখুঁত অবস্থান তেহরানের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর সামরিক বিশেষজ্ঞ দারা ম্যাসিকট জানান, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক ধরনের ‘প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন বাহিনীর ‘ওভার-দ্য-হরাইজন’ রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ব্যবস্থায় ইরান যেভাবে পিন-পয়েন্ট নির্ভুলতায় আঘাত হানছে, তা রাশিয়ার উন্নত মহাকাশ গবেষণা সক্ষমতা ও ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ছাড়া প্রায় অসম্ভব।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভকে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের প্রতিশোধ নিতেই মস্কো এখন তেহরানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। গত রোববার কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৬ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা এবং রিয়াদে সিআইএ স্টেশনে আঘাত হানার ধরন—সবই একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে। যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রতিদিন হ্রাস পাচ্ছে, তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে ফুরিয়ে আসছে।

রাশিয়া সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও এই সংকটে নিজেদের কৌশলগত সুবিধাই দেখছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বাড়তি মুনাফা অর্জন—মস্কোর জন্য এক বড় সুযোগ। হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কির মতে, ইরান এখন রাশিয়ার আধুনিক ‘ইন্টারসেপ্টর’ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল রপ্ত করছে, যা গত গ্রীষ্মের যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।

রুশ সহায়তার খবর চাউর হলেও বেইজিং এই মুহূর্তে সামরিক সহায়তা থেকে দূরে থাকছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে এক নাটকীয় মোড়ে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে। কিয়েভ ইতিমধ্যে তেহরানের ড্রোন প্রযুক্তি রুখতে তাদের ‘বিশেষজ্ঞ দল’ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অর্থাৎ, ইউক্রেনের রণাঙ্গন এখন আক্ষরিক অর্থেই মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমিতে স্থানান্তরিত হয়েছে।



National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.