ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক আগ্রাসনের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তির কোনো লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। এমন এক চরম উত্তেজনার মুহূর্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি দেশ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা শুরু করেছে। তবে যেকোনো আপস বা আলোচনার আগে জাতির মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মধ্যস্থতার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও আক্রমণকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কয়েকটি রাষ্ট্র এই সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। মধ্যস্থতাকারীদের উচিত তাদের বিষয়টির সুরাহা করা, যারা ইরানি জনগণকে অবজ্ঞা করে এই একতরফা সংঘাতের সূচনা করেছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাত বরণের খবর সংঘাতের আগুনকে আরও উসকে দেয়। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলি ভূখণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে।
যদিও প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সুনির্দিষ্টভাবে কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ওমান, কাতার ও তুরস্কের মতো রাষ্ট্রগুলো পর্দার আড়াল থেকে এই ভয়াবহ সংঘাত থামানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আশঙ্কা করছে, এই যুদ্ধ যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক বা এমনকি বৈশ্বিক মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের এই ‘মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার শর্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করে।
তথ্যসূত্র: স্পুটনিক