আইডিএফ প্রকাশিত ভিডিওর একটি দৃশ্য, যেখানে দাবি করা হয়েছে ইরানি হেলিকপ্টার ধ্বংসের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে মাটিতে আঁকা একটি নিপুণ ত্রিমাত্রিক ছবি বা ‘ডিকয়’, যা ধ্বংস করতে ইসরায়েল ৩০ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ছবি: সংগৃহীত/ভিডিও স্ক্রিনশট
ইরানের সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাম্প্রতিক একটি বিমান হামলার ভিডিও ঘিরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইডিএফ দাবি করেছে, তারা ইরানের একটি গোপন আস্তানায় সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। তবে সমর বিশ্লেষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেটিজেনদের বড় একটি অংশ এই দাবিকে নাকচ করে বলছেন, ইসরায়েল আসলে ইরানের পাতা এক সুনিপুণ ‘ডিকয়’ বা কৃত্রিম ফাঁদে পা দিয়েছে। সুনির্দিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে যা ধ্বংস হয়েছে, তা কোনো যুদ্ধযান নয়, বরং মাটিতে আঁকা একটি নিপুণ ত্রিমাত্রিক ছবি।
সম্প্রতি আইডিএফ তাদের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি ইনফ্রারেড ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ইরানের একটি গোপন অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে একটি ‘এমআই-১৭’ হেলিকপ্টারসহ বেশ কিছু স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে ভিডিওটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পর সমালোচকরা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, বিস্ফোরণের পর তথাকথিত সেই হেলিকপ্টারটি যেভাবে স্থির ছিল, তা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। বরং সেটি দেখতে মাটিতে আঁকা হেলিকপ্টারের অবিকল ত্রিমাত্রিক অবয়বের মতোই মনে হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন বিদ্রুপ করে লিখেছেন, “এটি যদি আসল হেলিকপ্টার হতো, তবে বোমাবর্ষণের পর এর পাখাগুলো এভাবে অনড় থাকত না। আপনারা স্রেফ একটি ছবির ওপর বোমা মেরে নিজেদের হাসির পাত্র বানিয়েছেন।” অন্য অনেকের মতে, এমন ‘ডামি’ লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েল আসলে তাদের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের অপচয় ঘটিয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান গত কয়েক বছর ধরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে শত্রুকে বিভ্রান্ত করতে ‘ডিকয়’ বা নকল লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করেছে। একটি হেলিকপ্টারের আদলে ছবি আঁকতে বা ডামি তৈরি করতে ইরানের খরচ হয় নামমাত্র কয়েক ডলার। অথচ সেই নকল নিশানা ধ্বংস করতে ইসরায়েল যে নিখুঁত গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। সমর কৌশলে একে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধরীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সামান্য ব্যয়ে শত্রুর বিশাল আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি করা সম্ভব।
আইডিএফ অবশ্য এই ক্রমবর্ধমান বিতর্ক ও বিদ্রুপের মুখে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সমর বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইসরায়েল একটি ‘ছবির’ ওপর হামলা করে থাকে, তবে তা আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলবে। মিনাবের ট্র্যাজেডি কিংবা রণতরীর সংঘাতের মাঝে এই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। সত্যতা যা-ই হোক, ইরানের এই ‘নকল লক্ষ্যবস্তু’ কৌশল আপাতত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে ভাবিয়ে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল হামলা ইরান যুদ্ধ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
