প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক শক্তির দাপটে খুব অল্প সময়ে এবং নামমাত্র ব্যয়ে ইরান বিজয় সম্পন্ন হবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন আত্মবিশ্বাসী সমীকরণ এখন চরম বাস্তবতার মুখে। সংঘাত শুরুর পর থেকে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী মূল্য এবং মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলার ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। সামরিক শক্তির প্রদর্শনীতে ওয়াশিংটন যতটা সফল হতে চেয়েছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট—দ্রুততম সময়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা এবং ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের মতো অভিযানগুলো সফলভাবে শেষ করা। ট্রাম্প এসব পদক্ষেপকে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং সফল হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তবে পেন্টাগনের বর্তমান হিসাব বলছে ভিন্ন কথা। প্রতিদিন এই যুদ্ধে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং এরই মধ্যে ৬ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ক্রমাগত হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন খাদের কিনারায়।
ইরানে এখনো স্থলসেনা পাঠানো না হলেও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, সংঘাত সহসা থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং অভিযানের গতি আরও বাড়িয়ে সেখানে নতুন বোমারু বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। এই মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চললেও এটি ট্রাম্পের ‘নিখুঁত অভিযানের’ দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
কলোরাডোর ডেমোক্রেট প্রতিনিধি ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো এই পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্প এক সময় ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ বিরোধিতা করলেও এখন নিজেই সেই পথে হাঁটছেন। তার মতে, হাজার হাজার প্রাণহানি আর ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সেই পুরনো সংকটে দেশ আবারও নিমজ্জিত হচ্ছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের ফেলো জন হফম্যান মনে করেন, মাদুরো ইস্যুতে প্রাথমিক সাফল্যের পর ট্রাম্প নিজেকে ‘অজেয়’ ভাবতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু ইরান আর ভেনেজুয়েলা এক নয়। এর প্রভাবেই ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো এলিয়ট আব্রামসের মতে, কয়েক দশক ধরে মার্কিনিদের লক্ষ্যবস্তু বানানো ইরানি সামরিক শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে। তবে জন হফম্যান ভিন্নমত পোষণ করে সতর্ক করেছেন যে, ইরানকে অস্থিতিশীল করার অর্থ হলো পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি করা এবং আইসিসের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।
ট্রাম্প ইরানি জনগণকে তাদের দেশ ‘দখল’ করার ডাক দিলেও, হোয়াইট হাউস সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরাসরি মদত দেবে কি না, তা নিয়ে এখনো রহস্য বজায় রেখেছে। তবে সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই যুদ্ধযাত্রা ওয়াশিংটনকে এক দীর্ঘস্থায়ী এবং চড়া মূল্যের সংকটের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
