× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর অনুসন্ধানে

মিনাবে ইরানি স্কুলে সেই হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে মার্কিন বাহিনী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৬ মার্চ ২০২৬, ২০:১৪ পিএম । আপডেটঃ ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১:২৭ পিএম

মিনাবে বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার এক শিক্ষার্থীর ব্যাগ ও ছবি হাতে নিয়ে তেহরানে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল দুই নারী। ছবি: তাসনিম নিউজ

দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলার নেপথ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। ইরানের স্বাস্থ্য বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ নিশ্চিত করেছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের ওই স্কুলে চালানো হামলায় অন্তত ১৭৫ জন শিক্ষার্থী ও স্কুলকর্মী নিহত হন। স্যাটেলাইট চিত্র, যাচাইকৃত ভিডিও এবং গোয়েন্দা তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাশের একটি নৌ-ঘাঁটিতে পরিচালিত বৃহত্তর মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবেই এই সুনির্দিষ্ট হামলাটি চালানো হয়েছিল।

হামলার পর থেকেই দায় স্বীকার নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নিউইয়র্ক টাইমসের তদন্ত ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, নৌ-ঘাঁটির অভ্যন্তরে চারটি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করার পাশাপাশি স্কুলের ছাদেও সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। পেন্টাগনের প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ওয়েস জে. ব্রায়ান্ট চিত্রগুলো পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন, স্কুল ভবনটিতে অত্যন্ত ‘সুনির্দিষ্ট এবং ইচ্ছাকৃতভাবে’ আক্রমণ করা হয়েছে। তিনি একে ‘টার্গেট মিসআইডেন্টিফিকেশন’ বা লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে ভুল হিসেবে অভিহিত করলেও, অনেক বিশ্লেষক একে নিছক ভুল মানতে নারাজ।

মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি যখন হামলায় ধূলিসাৎ হয়, তখন সেখানে পাঠদান চলছিল। ইরানি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ওই প্রাঙ্গণে ১৭৫টি কচি প্রাণ অকালে ঝরে পড়ে। টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে স্কুলের ক্রীড়া মাঠ ও শিশুদের বিনোদন এলাকা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলো, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ইন্টারনেটে ছড়ানো ‘ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে স্কুলে পড়েছে’—এমন তত্ত্বগুলো ভিত্তিহীন। কারণ, একটি বিপথগামী ক্ষেপণাস্ত্র কখনোই নৌ-ঘাঁটি ও স্কুলের মতো একাধিক কাঠামোতে এত নিখুঁত ও সমন্বিত ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে না। এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানালেও, একই সময়ে ওই এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানের সক্রিয় অভিযানের কথা পেন্টাগন পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছে।

ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মিনাবের এই ঘটনাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বেসামরিক প্রাণহানি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অথচ এত বড় এক মানবিক বিপর্যয়ের পরও কোনো পক্ষ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেনি। এই জবাবদিহিতার অভাব এবং বেসামরিক স্থাপনায় সুনির্দিষ্ট হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরা। মিনাবের সেই ধ্বংসস্তূপ এখন কেবল এক বিধ্বস্ত জনপদ নয়, বরং বিশ্ব বিবেকের কাছে এক অমীমাংসিত প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি



বিষয় : ইরান

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.