ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময়সীমা নিয়ে নিজের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে এক দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের শুরুতেই চার সপ্তাহের মধ্যে অভিযান সমাপ্তির যে প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেছিলেন, তা থেকে বিচ্যুত হয়ে ট্রাম্প এখন বলছেন—সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কৌশলের এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর ১ মার্চ ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই অভিযানের ইতি ঘটবে। তবে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী ‘টাইম’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি ভিন্ন সুর ধরলেন। ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে এখন কোনো নির্ধারিত সময়সীমা নেই। আমাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় লক্ষ্য হলো—ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। আর চতুর্থত, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সমূলে উৎপাটন করতে হবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই যুদ্ধ অন্তত আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই সময়সীমাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার স্পষ্ট আভাস দিচ্ছে।
ইরানে এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পাল্টা হামলার আশঙ্কা আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প সরাসরি উদ্বেগের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “মার্কিন নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক এবং আমার মনে হয় তারা সব সময়ই এক ধরনের আশঙ্কার মধ্য দিয়েই থাকেন।”
এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানির বিষয়টিকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিলেও যুদ্ধের অনিবার্য ফল হিসেবে এটিকে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি অত্যন্ত কষ্টের, কিন্তু যুদ্ধে গেলে কিছু মানুষের মৃত্যু হবেই—এটাই রূঢ় বাস্তবতা।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন মূলত ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং যুদ্ধের জটিল বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করছে। দ্রুত বিজয়ের স্বপ্ন থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের এই প্রস্তুতি কেবল পারস্য উপসাগর নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের এই ‘লক্ষ্যভিত্তিক’ যুদ্ধনীতি কতদূর গড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র : সিএনএন