আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিবসকে সামনে রেখে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বিশ্বজুড়ে নারী ও কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পৃথিবীতে নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে মাত্র ৬৪ শতাংশ আইনি অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। মহাসচিবের মতে, এই ৩৬ শতাংশের ব্যবধান কেবল গাণিতিক কোনো তথ্য নয়, বরং এটি কোটি কোটি নারীর প্রাত্যহিক জীবনের এক বঞ্চনা ও রূঢ় বাস্তবতা।
মহাসচিবের বার্তায় জানিয়েছেন, একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও অনেক দেশে নারীরা সম্পত্তির মালিকানা লাভ, বিবাহবিচ্ছেদ কিংবা স্বাধীনভাবে পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আজও ‘পুরুষের অনুমতির’ ওপর নির্ভরশীল। দুঃখজনকভাবে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে আজও ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ আইনি স্বীকৃতি পায়নি। এমনকি সন্তানদের নাগরিকত্ব প্রদান কিংবা স্বাধীনভাবে চলাচলের মতো মৌলিক বিষয়েও অনেক দেশে আইনের কঠোর শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। মহাসচিব বলেন, যেখানে আইনি সুরক্ষা বিদ্যমান, সেখানেও প্রয়োগের দুর্বলতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে নারীরা ন্যায়বিচার পেতে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন।
বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ‘বিপজ্জনক প্রবণতার’ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, “আমরা আজ এমন এক বৈরী সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নবউত্থিত পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীদের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসলগুলোকে কেড়ে নিতে চাইছে।” কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও নিজস্ব দেহের ওপর অধিকার—সর্বত্রই প্রগতিশীল পরিবর্তনের চাকাকে উল্টো দিকে ঘোরানোর এক পরিকল্পিত অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং ‘বেইজিং+৩০’ এজেন্ডার বাস্তবায়ন নিশ্চিতে বিশ্ববাসীকে অভিন্ন মঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব। তিনি জানান, “আইনের দৃষ্টিতে পূর্ণ সমতা না আসা পর্যন্ত আমরা সমাজ হিসেবে কখনোই সমান হতে পারব না।” তিনি বিশ্ব নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নারী অধিকারকে কেবল বার্ষিক উৎসবের ফ্রেমে বন্দি না রেখে একে প্রতিটি রাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করতে হবে। মর্যাদা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করাই হোক এই সময়ের প্রধান বিশ্ব অঙ্গীকার।