পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উত্তরাঞ্চলে একটি মার্কিন তেল ট্যাংকারে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেহরানের এই সরাসরি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ আইআরজিসি নৌবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রথাগত আন্তর্জাতিক বিধি এবং যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী হরমুজ প্রণালীর জলসীমা এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচলের সর্বময় কর্তৃত্ব তাদের হাতে থাকবে।
আইআরজিসি-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহারের অনুমতি পাবে না। বিধি লঙ্ঘনের পরিণাম হিসেবেই আজকের এই সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, আক্রান্ত মার্কিন তেল ট্যাংকারটি বর্তমানে মাঝ সমুদ্রে দাউদাউ করে জ্বলছে। তবে ট্যাংকারটিতে থাকা ক্রুদের অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। আইআরজিসি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে কোনো মার্কিন বা ইউরোপীয় জাহাজ শনাক্ত হওয়া মাত্রই সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী এই হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা অস্থিতিশীল করে দেওয়ার মাধ্যমে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে চাইছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও সহযোগী দেশগুলোর নৌ-চলাচল গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি