মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামার মাঝে এক অকুতোভয় বার্তা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে তারা বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। বরং ওয়াশিংটনকে একটি ‘কঠিন জবাব’ দেওয়া এবং নিজস্ব সামরিক লক্ষ্য অর্জনই এখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একমাত্র অগ্রাধিকার।
ইরানের সেনাবাহিনীর ‘খতম আল আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল কিওমার্স হায়দারি গতকাল বুধবার আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই রণকৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আট বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের (ইরাক-ইরান যুদ্ধ) অভিজ্ঞতা আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্ত জবাব দিতে পারছি, ততক্ষণ এই লড়াই চলবে।”
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, যখন টানা ২১ দিনের দীর্ঘ পরমাণু সংলাপ কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যায়। আলোচনার টেবিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরান রিক্তহস্তে ফেরার পরদিনই, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই তালে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’।
আজ যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে পদার্পণ করেছে ইরান। গত ছয় দিনের এই বিধ্বংসী অভিযানে পারস্যের জনপদ এখন রক্তাক্ত। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানেই নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা ৫,০০০-এর অধিক। হাসপাতালের করিডোর থেকে শুরু করে রাজপথ—সবখানেই এখন যুদ্ধের ক্ষত। কিন্তু জেনারেল হায়দারির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও তেহরান তাদের সামরিক অবস্থান থেকে এক চুলও নড়তে নারাজ।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল হায়দারির এই মন্তব্য কেবল একটি সামরিক বার্তা নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রচ্ছন্ন হুমকি। ইরান এখন তাদের অর্জিত লক্ষ্য আর সম্মানের প্রশ্নটিকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বড় করে দেখছে।
সূত্র : আলজাজিরা