মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে পেন্টাগনের ভাণ্ডারে থাকা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধকারী ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনকে এখন অত্যন্ত ‘হিসাব কষে’ প্রতিটি মিসাইল ব্যবহারের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ বুধবার সংশ্লিষ্ট তিনটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মার্কিন স্থাপনা রক্ষায় পেন্টাগন গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা তাদের বার্ষিক সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের রক্ষণাত্মক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ওয়াশিংটন পোস্টের এই বিস্ফোরক তথ্য মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। মাত্র চব্বিশ ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাপ্রধান জেনারেল ডেন কেইন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, তাদের হাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক মিসাইল মজুত রয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের সেই আশ্বাসের আড়ালে আসলে একটি বড় ধরনের রসদ সংকট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মিসাইল সংকট পেন্টাগনের জন্য একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারসেপ্টর মিসাইল তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। ইরানের মতো দেশগুলো যখন ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বলয়কে ব্যতিব্যস্ত করে রাখছে, তখন ইন্টারসেপ্টরের এই স্বল্পতা ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক আধিপত্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, পেন্টাগন কি তাদের মজুত রক্ষায় রক্ষণাত্মক নীতি থেকে সরে এসে নতুন কোনো সামরিক কৌশলের আশ্রয় নেবে?
তথ্যসূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট