ইরাকের কুর্দিস্তান সীমান্তে আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে তুরস্কের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। তেহরানের এই সামরিক তৎপরতা এবং ন্যাটোর পাল্টা প্রতিরোধে অঞ্চলটিতে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানের শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) জানায়, স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে তারা ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তেহরান বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘কোমালা’ এবং অন্যান্য ‘প্রতিবিপ্লবী’ সংগঠনের সদরদপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি’র দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই নির্বাসিত কুর্দি গোষ্ঠীগুলো বর্তমান ইরানি সরকারকে উৎখাত ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। তেহরান এই জোটকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে আরও গভীর ষড়যন্ত্র। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানানো হয়েছে, সিআইএ ইতিমধ্যে ইরান-বিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছে। হাজার হাজার সশস্ত্র সদস্য ইরানি ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই তেহরান তাদের ভাষায় ‘প্রতিরোধমূলক’ এই হামলা চালিয়েছে।
ইরাকের পাশাপাশি তুরস্কের আকাশসীমাও বুধবার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরান থেকে তুরস্কের লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তবে সেটি লক্ষ্যভেদের আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমাতেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, "সময়মতো শনাক্তকরণের পর ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আঘাত হেনে অকেজো করে দেয়।"
এই ঘটনার পর তেহরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এবং সরাসরি যুদ্ধ উসকে দিতে পারে—এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে ইরানকে বিরত থাকতে হবে। ন্যাটোর এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে ইরানের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পশ্চিমা শক্তিগুলো সরাসরি যুক্ত হতে দ্বিধা করবে না।
তথ্যসূত্র: এএফপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
