সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর দিগন্তজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার সৌদি আরামকোর ‘রাস তানুরা’ স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ইসরায়েলের স্পর্শকাতর সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইএআই’ সদরদপ্তরে আঘাত হেনেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। জ্বালানি করিডোর এবং প্রতিরক্ষা শিল্প—উভয় খাতেই এই ধারাবাহিক আক্রমণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক ভয়াবহ সংকটের কিনারে ঠেলে দিয়েছে
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় রাস তানুরায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর বৃহত্তম শোধনাগারে বুধবার সকালে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন সরাসরি শোধনাগারটিতে আঘাত হানে। এর আগে গত সোমবার একই স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও ধ্বংসাবশেষের আগুনে প্ল্যান্টটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন এই হামলা বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
অন্যদিকে, বুধবার রাত ২টার দিকে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের’ (আইএআই) সদরদপ্তর লক্ষ্য করে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা, যারা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট তৈরি করে থাকে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর এই হামলায় একটি ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী সামরিক ঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানপন্থী এই গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার প্রধান উৎস। এখানে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া মানেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটা। অন্যদিকে, আইএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ প্রমাণ করেছে যে ইসরায়েলের ‘নিশ্ছিদ্র’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন ড্রোনের মুখে প্রশ্নবিদ্ধ। এই দ্বিমুখী আক্রমণ মূলত তেহরান ও তার মিত্রদের সুসংগত রণকৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
সংঘাতের এই ঊর্ধ্বগতি রোধে আন্তর্জাতিক মহলের নিষ্ক্রিয়তা পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে, যার প্রভাব অনুভূত হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে।
তথ্যসূত্র: এএফপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
