বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালী’ ইরানের পক্ষ থেকে অবরুদ্ধ করার ঘোষণার পর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি ঘোষণা করেছেন, জ্বালানি তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে অবরুদ্ধ এই জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলোকে পাহারা দেবে মার্কিন নৌবাহিনী। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য বিপর্যয় রুখতেই ওয়াশিংটন এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে জানান, “মার্কিন নৌবাহিনী যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোকে এসকর্ট বা পাহারা দেওয়া শুরু করবে।” তিনি আরও বলেন, “যেকোনো মূল্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে জ্বালানির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। আমাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি পৃথিবীতে সর্বশ্রেষ্ঠ—প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তাঁর এই বার্তাটি মূলত তেহরানকে দেওয়া একটি সরাসরি হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
সংঘাতের নতুন মাত্রা
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতার বা অন্যান্য আরব দেশের এলএনজি ও তেল পরিবহন আটকে দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছে, ট্রাম্পের এই ‘নেভাল এসকর্ট’ বা নৌ-পাহারা পরিকল্পনা তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবে। এর ফলে পারস্য উপসাগর ও সংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। ওয়াশিংটনের এই সামরিক প্রস্তুতি বিশ্ববাসীকে একটি অনিশ্চিত এবং সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা