× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসে হামলা, মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছেন আমেরিকানরা

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫০ এএম । আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৮ এএম

সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। মঙ্গলবার ভোররাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং বাহরাইনের কৌশলগত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে ওমানের দুকুম বন্দরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর ওপর এই বহুমুখী আক্রমণ ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক আধিপত্যকে এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মঙ্গলবার ভোরে রিয়াদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কূটনৈতিক পাড়ায় দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানলে মার্কিন দূতাবাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিকট বিস্ফোরণের পর দূতাবাসের আকাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ‘সামান্য বস্তুগত ক্ষতি’র দাবি করলেও কূটনৈতিক পাড়ায় ড্রোনের উপস্থিতি জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চারটি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও কিছু ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হামলার সময় ভবনটি খালি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, অন্তত ২০টি ড্রোন ও ৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটিটির ‘কমান্ড সদর দপ্তর’ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি, তবে বাহরাইনের মানামায় ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের চিত্রগুলো যুদ্ধের ভয়াবহতাকেই ইঙ্গিত করছে।

মার্কিন স্থাপনায় এই হামলার পর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “দূতাবাসে হামলা এবং মার্কিন সেনাদের হত্যার উপযুক্ত জবাব শিগগিরই স্পষ্ট করে দেওয়া হবে। আপনারা তা সময়মতো জানতে পারবেন।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরানের এই ধারাবাহিক পাল্টা হামলার মুখে মঙ্গলবার বড় ধরনের সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও ইরাক থেকে জরুরি নয়—এমন কর্মীদের অবিলম্বে ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে কনস্যুলার বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোরা নামদার এক ডজনের বেশি দেশে অবস্থানরত আমেরিকানদের ‘অবিলম্বে’ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে কুয়েতের মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি করিডোর ও বাণিজ্যিক রুটগুলোতে এই অস্থিরতা এবং সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত বিশ্ব রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করছে।


সূত্র: আল–জাজিরা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.