ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন।
ইউক্রেনীয় জনপদে দীর্ঘকাল আতঙ্কের নাম হয়ে থাকা ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এবার মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন বিভীষিকা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে কয়েক শ শাহেদ ড্রোনের ডেল্টা-উইং এবং ইঞ্জিনের সেই চিরচেনা কর্কশ শব্দ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সস্তা ও সহজলভ্য এই ড্রোনগুলোকেই এখন ওয়াশিংটনের মিত্রদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।
-69a74cea59b30.jpg)
বাহরাইনের মানামা থেকে পাওয়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, রাতের নিস্তব্ধতা চিরে ঘাস কাটার মেশিনের (লনমাওয়ার) মতো বিকট শব্দে একটি ড্রোন ধেয়ে আসছে বহুতল ভবনের দিকে। মুহূর্তেই সজোরে আঘাত এবং আগুনের লেলিহান শিখা—পুরো দৃশ্যটিই যেন রণক্ষেত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। গত শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে ইরান, যার একটি বিশাল অংশই ‘শাহেদ-১৩৬’ মডেলের। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের ওপর ধেয়ে আসা ৬৮৯টি ড্রোনের মধ্যে ৪৪টি নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
সাড়ে তিন মিটার দৈর্ঘ্যের এই ড্রোনগুলো প্রায় ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহন করতে পারে। যদিও এটি কোনো আকাশচুম্বী ভবন পুরোপুরি ধসিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে না, তবে এর বিধ্বংসী প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টিতে অতুলনীয়। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের একটি রাডার ডোম ধ্বংস করার ঘটনা এই ড্রোনের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষমতারই প্রমাণ দেয়। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ড্রোনগুলো রাডার ফাঁকি দিতে অত্যন্ত নিচ দিয়ে উড়তে সক্ষম এবং শেষ মুহূর্তে দিক পরিবর্তন করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে পারে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যবহারের মাধ্যমে শাহেদ ড্রোন বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অধীনস্থ ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার’ এর নকশা প্রণয়ন করে। বর্তমানে রাশিয়ার ইয়েলাবুগা শহরের কারখানায় এটি বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত হচ্ছে। ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে জাতীয় পর্যায়ে সংকট তৈরির যে কৌশল ইরান ও রাশিয়া অবলম্বন করেছিল, একই ধাঁচের ছায়া এখন মধ্যপ্রাচ্যেও দৃশ্যমান।
সোমবার সকালে সৌদি আরবের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরায় ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ শোধনাগারটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এই নির্দিষ্ট হামলায় শাহেদ ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে এর ধ্বংসক্ষমতা ও কৌশল শাহেদ ঘরানার বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত রেখে বড় কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের পথ সুগম করার যে ‘ঝাঁক হামলা’ কৌশল ইরান ইউক্রেনে প্রয়োগ করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
বিষয় : ড্রোন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ইরান ইসরায়েল সংঘাত ইরান যুদ্ধ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
