ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পশ্চিমা শক্তির এই অভিযানে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা সহযোগিতা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা রুখতে একযোগে ‘‘প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা’’ গ্রহণের পরিকল্পনা জানানোর পর তেহরান এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল। ইসমাইল বাঘাই দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘‘ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের যেকোনো পদক্ষেপকে মূল হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশ হিসেবে গণ্য করা হবে। একে আমরা ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই দেখব।’’ ইউরোপীয় দেশগুলো যেন এই সংঘাতের অংশীদার না হয়, সেই বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এদিকে, গত চার দিন ধরে ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, হামলায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ। যদিও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে এই হতাহতের সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুসারে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং পাঁচ শতাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে সহস্রাধিকবার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির অবকাঠামো ও জননিরাপত্তা এখন চরম সংকটের মুখে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারি এবং অব্যাহত প্রাণহানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এএফপি