মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের মুখে কৌশলগত অবস্থান জোরদার করতে ভূমধ্যসাগরে নিজেদের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি ‘শার্ল দ্য গোল’ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান এই যুদ্ধজাহাজটি পাঠানোর পাশাপাশি আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে রাফাল ফাইটার জেট, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক এয়ার রাডার মোতায়েন করা হয়েছে। মূলত ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও তা প্রতিহত করার লক্ষ্যেই প্যারিস এই ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাম্প্রতিক এই মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান এবং ইরাকের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফ্রান্স তাদের পাশে থেকে ‘অটল সংহতি’ প্রদর্শন করবে। ম্যাক্রোঁর এই বার্তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের কৌশলগত প্রভাব এবং মিত্রদের সুরক্ষায় তাদের দৃঢ় অবস্থানেরই প্রতিফলন।
এ অঞ্চলের উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিশেষ করে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর হামলাকে একটি ‘ভয়াবহ ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংঘাতের বিস্তার রোধে ইসরায়েলকেও সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, উত্তর প্রতিবেশী লেবাননের ভেতরে কোনো ধরনের স্থল অভিযান চালানো হবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের এই সামরিক উপস্থিতি এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা