× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

খামেনি হত্যায় মোদী সরকারের নিরবতা নিয়ে সোনিয়া গান্ধীর তোপ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৮ পিএম । আপডেটঃ ০৪ মার্চ ২০২৬, ০১:০৬ এএম

২০১৬ সালে তেহরান সফরে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: বিবিসি

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক প্রয়াণ বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। চীন, রাশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো রাষ্ট্রগুলো যখন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও শোক প্রকাশ করছে, তখন দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানের বিষয়ে ভারতের রহস্যজনক ‘নীরবতা’ খোদ দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দেই বিতর্কের ঝড় তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ‘সংযম’ ও ‘শান্তি’র চিরাচরিত বুলি আওড়ালেও, খামেনির মৃত্যু প্রসঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট শোকবার্তা বা নিন্দা না জানানোকে কেন্দ্র করে উত্তাল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন।

সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হৃদ্যতাপূর্ণ করমর্দন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রেক্ষাপট ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমালোচনার মূল খোরাক জুগিয়েছে। কংগ্রেসসহ বামপন্থী ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভারত তার ঐতিহাসিক ‘জোটনিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বলয়ের দিকে বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে পড়ছে।

কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে সরকারের এই অবস্থানকে সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের (আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচার) সঙ্গে ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৯৪ সালে কাশ্মীর ইস্যুতে ওআইসি-র প্রস্তাব রুখে দিয়ে ইরান যেভাবে দিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছিল, আজ বিপদের দিনে সেই বন্ধুকে অবজ্ঞা করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মুহূর্তে ভারতের অবস্থান কেবল অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মধ্যপ্রাচ্যে দিল্লির প্রভাবকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। জর্ডান ও লিবিয়ায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়েত ভারতের ‘ডি-হাইফেনেশন’ নীতির কথা বললেও, ‘দ্য টাইমস কুয়েত’-এর ম্যানেজিং এডিটর র‍্যাভেন ডিসুজার পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তিনি মনে করেন, সংঘাতের এই চরম মুহূর্তে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকটি এড়িয়ে যাওয়াই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। ডিসুজার মতে, ভারতের এই রহস্যময় আচরণ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ভারতের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমলব্ধ ‘সফট পাওয়ার’ বা কূটনৈতিক মর্যাদা কলঙ্কিত করতে পারে।

চাপে পড়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রাথমিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সকল পক্ষকে সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে গেলেও, খামেনি হত্যার বিষয়ে কোনো ‘অফিসিয়াল কনডোলেন্স’ বা শোকবার্তা এখনো না আসায় বিরোধীদের বিক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্কের তাড়নায় ভারত যদি তার পুরনো বন্ধু ইরানের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ অব্যাহত রাখে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক আধিপত্যের পথে কৌশলগত বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.