ওমান উপসাগরের কৌশলগত জলসীমায় বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, ওই অঞ্চলে টহলরত ইরানের নৌবাহিনীর ১১টি যুদ্ধজাহাজের সবকটিকেই ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, মাত্র দুই দিন আগেও ওমান উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় ইরানের ১১টি যুদ্ধজাহাজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে সোমবার এক বিশেষ অভিযানে সেগুলোর সবকটিকে সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “ওমান উপসাগরে ইরানের নৌ-তৎপরতার এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।”
অভিযান পরবর্তী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সেন্টকম জানায়, গত কয়েক দশক ধরে ওমান উপসাগর দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ইরান ক্রমাগত হামলা ও হয়রানি চালিয়ে আসছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর মতে, এই সামরিক পদক্ষেপের ফলে ওই অঞ্চলে ইরানের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও ভীতির শাসনের অবসান ঘটেছে। বিবৃতিতে আত্মবিশ্বাসের সাথে উল্লেখ করা হয়, “সেসব দিন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে; তা আর কখনো ফিরে আসবে না।”
এই চাঞ্চল্যকর দাবি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের ঘি ঢেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওমান উপসাগরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এমন সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি