× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আইআরজিসি-কে কি খাটো করে দেখেছিলেন ট্রাম্প?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০২ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৮ পিএম । আপডেটঃ ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:০৮ এএম

তেহরানের রাজপথে আইআরজিসি সদস্যদের কুচকাওয়াজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের আকাশজুড়ে এখন বারুদের গন্ধ আর মহাপ্রলয়ের সংকেত। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলার মুখে তেহরান যখন পর্যুদস্ত, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অভাবনীয় ঘোষণা দেন। ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি দুটি পথ খোলা রাখেন—হয় বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ এবং ‘পূর্ণাঙ্গ দায়মুক্তি’, নয়তো ‘নিশ্চিত মৃত্যু’। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প কি আইআরজিসি এবং এর অঙ্গসংগঠন ‘বাসিজ’-এর আদর্শিক ও কাঠামোগত ভিত্তি কি কিছুটা খাটো করে দেখেছিলেন?

ট্রাম্পের এমন চরমপত্রের পরেও আইআরজিসি বা বাসিজ বাহিনীর মধ্যে ভাঙনের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের পর এই বাহিনীগুলো আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করেছে যে, ট্রাম্পের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ মাঠপর্যায়ে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের ফসল আইআরজিসি কেবল একটি বাহিনী নয়, এটি ইরানের সংবিধান স্বীকৃত এক বিশাল আদর্শিক প্রতিষ্ঠান। ১ লাখ ৯০ হাজার সক্রিয় সদস্য এবং প্রায় ৬ লাখ রিজার্ভ সৈন্যের এই বাহিনীর প্রধান চালিকাশক্তি হলো ‘ভেলায়াত-ই ফকিহ’ বা ইসলামি আইনজ্ঞদের অভিভাবকত্ব। ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সমান্তরালে থেকেও এটি সরাসরি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার আজ্ঞাবহ। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পারমাণবিক প্রকল্পের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এই বাহিনীর ওপর ন্যস্ত।

যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করলেও ইরানের অর্থনীতির গভীরে এর শিকড় প্রোথিত। পরিবহন, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘রেজিস্ট্যান্স ইকোনমি’ বা নিষেধাজ্ঞা অতিক্রম করার অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই ট্রাম্পের ‘দায়মুক্তির’ টোপ আইআরজিসি সদস্যদের প্রলুব্ধ করতে পারেনি।

আইআরজিসির অধীনে থাকা ‘বাসিজ’ মূলত এক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, যারা গভীর মতাদর্শিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় এই বাহিনীর সদস্যরা ‘শহীদ হওয়ার মিশনে’ মাইন অপসারণের মতো আত্মঘাতী কাজও করেছেন। বর্তমানে সাড়ে চার লাখ সদস্যের এই বিশাল আধা-সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শাসনকাঠামো রক্ষায় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক উপ-সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল মুলরয় আল-জাজিরাকে বলেন, “ইরানের শাসনব্যবস্থায় একাধিক শক্তিশালী কেন্দ্র রয়েছে। তারা ট্রাম্প বা ইসরায়েলের নির্দেশে সাড়া দেবে—এমনটা ভাবা বোকামি।” অন্যদিকে, আটলান্টিক কাউন্সিলের পরিচালক জোনাথন প্যানিকঅফ মনে করেন, “খামেনির অবর্তমানে ইরান হয়তো গণতন্ত্রের পথে যাবে না, বরং পুরো রাষ্ট্রের ওপর আইআরজিসির সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও নিরঙ্কুশ ও নিশ্ছিদ্র হতে পারে।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির উদ্দেশ্য ছিল নেতৃত্বের ভেতরে ভাঙন ধরানো। কিন্তু ইতিহাস বলছে, বহিঃশত্রুর আক্রমণ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু ইরানি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বিভেদ তৈরির বদলে বরং একটি ‘একক সামরিক ছায়া’র নিচে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অনিশ্চিত পূর্ণাঙ্গ মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, যেখানে আইআরজিসি তাদের মরণপণ লড়াইয়ের সংকেত দিচ্ছে।


সূত্র: আল–জাজিরা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.