মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের নেপথ্যে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সুগভীর চাপ ও প্ররোচনা কাজ করেছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রবীণ মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ওয়াশিংটনের বর্তমান রণকৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন। স্যান্ডার্সের মতে, মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সংকীর্ণ স্বার্থরক্ষা করতে গিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এক অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের পথে পা বাড়িয়েছে।
নিজের পোস্টে স্যান্ডার্স অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে নেতা গাজায় নিরপরাধ ৭২ হাজার মানুষকে হত্যার কারিগর—যাদের বিশাল একটি অংশই নারী ও শিশু—তার মুখে আঞ্চলিক শান্তির বুলি মানায় না। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে একটি ‘নির্মম একনায়কতান্ত্রিক’ রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সেখানে ভিন্নমতের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই।
ভারমন্টের এই স্বাধীনচেতা সিনেটর বিশ্ববিবেকের কাছে এক মৌলিক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “নেতানিয়াহুর মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব আর সৌদি রাজতন্ত্রের মতো একনায়করাই কি এখন ইরানে ‘স্বাধীনতা’ ও ‘গণতন্ত্র’ আনতে চায়? কেউ কি সত্যিই এই প্রহসন বিশ্বাস করে?” স্যান্ডার্সের এই উক্তি মূলত ওয়াশিংটনের ‘মানবাধিকার রক্ষা’র বয়ানকে এক বিরাট নৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
স্যান্ডার্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইরানে মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ আমেরিকার অভ্যন্তরেই তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্যান্ডার্সের এই অবস্থান বাইডেন-ট্রাম্প ঘরানার দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি প্রগতিশীল মার্কিন ভোটারদের মাঝে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করবে।