রাস তানুরা শোধনাগারে ইরানি ড্রোনের বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমা।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার ‘রাস তানুরা’য় ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের তৈরি ‘শাহেদ-১৩৬’ আত্মঘাতী ড্রোনটি সরাসরি শোধনাগারটিতে আঘাত হানে। হামলার পর বিশ্ববিখ্যাত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফনের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, ড্রোনের আঘাতে শোধনাগারের একটি অংশে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে আরামকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই নাশকতামূলক হামলায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে বিশাল এই কমপ্লেক্সের শোধন ইউনিট ও পাইপলাইন নেটওয়ার্কগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে অবস্থিত রাস তানুরা কেবল একটি শোধনাগার নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল শোধন করা হয়। এর পাশেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানি টার্মিনাল, যেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল জ্বালানি এশিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। আন্তর্জাতিক তেলবাহী জাহাজের প্রধান নোঙরস্থল হিসেবে এই স্থাপনাটির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এখানে সামান্যতম বিঘ্নও পুরো বিশ্বের শিল্প ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান কর্তৃক ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক জোটের বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই সৌদির এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। কড়া নিরাপত্তা ও আধুনিক রাডার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শাহেদ ড্রোনের এই অনুপ্রবেশ রিয়াদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেহরান ও রিয়াদের এই ছায়াযুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়, তবে হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে লোহিত সাগর পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহনের প্রতিটি রুট অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটন ও ওপেক প্লাস দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
