ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অবধারিত প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যুদ্ধের দামামায় একলাফে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। রোববার (১ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে তেলের এই আকাশচুম্বী মূল্যের চিত্র উঠে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম অচিরেই ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করতে পারে।
জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-করিডোর ‘হরমুজ প্রণালি’। বৈশ্বিক পণ্য বাজারের পূর্বাভাস দাতা সংস্থা আইসিআইএস-এর পরিচালক অজয় পারমার জানান, সরাসরি সামরিক হামলার চেয়েও বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এই প্রণালির সম্ভাব্য অবরুদ্ধ অবস্থা। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেহরানের হুমকির মুখে বড় তেল কোম্পানি ও ট্যাঙ্কার মালিকরা ইতিমধ্যে এই পথে এলএনজি ও তেল পরিবহন স্থগিত করেছে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
আরবিসির বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা আগেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।” রাইস্টাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন মনে করেন, সৌদি আরব বা আবুধাবির বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করলেও দৈনিক ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি এড়ানো সম্ভব নয়। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে প্রতি ব্যারেলে দাম আরও ২০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
চাহিদা ও জোগানের এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক প্লাস’ এপ্রিল থেকে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উত্তোলনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ সমুদ্রের মাঝে শিশির বিন্দুর মতো। এটি বৈশ্বিক চাহিদার মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশের কম, যা বর্তমান সংকট মোকাবিলায় কার্যত কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
গত জুলাইয়ের পর গত শুক্রবার পর্যন্ত তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও রবিবারের এই উল্লম্ফন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি উন্নত ও উন্নয়নশীল—উভয় দেশের পরিবহন ও উৎপাদন খাতে চরম মুদ্রাস্ফীতি বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।