মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতিতে এক নাটকীয় মোড় নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে পরোক্ষভাবে যুক্ত হলো যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সোমবার এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা খর্ব করতে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও কৌশলগতভাবে লন্ডনের এই অবস্থান তেহরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটকে আরও শক্তিশালী করল।
প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, "মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মিত্ররা সুরক্ষার প্রশ্নে আরও জোরালো ভূমিকার জন্য আমাদের অনুরোধ জানিয়েছে। বর্তমানে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমানগুলো আকাশপথে যৌথ প্রতিরক্ষা অভিযানে অংশ নিচ্ছে এবং তারা ইতিপূর্বেই ইরানের ছোঁড়া বেশ কিছু লক্ষ্যভ্রষ্ট হামলা সফলভাবে রুখে দিয়েছে।"
স্টারমার তাঁর বার্তায় একটি সূক্ষ্ম সামরিক কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর মতে, কেবল মাঝ-আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা যথেষ্ট নয়; বরং এই হুমকি চিরতরে নির্মূল করতে হলে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎস বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতেই আঘাত হানতে হবে। তিনি বলেন, "ইরানের যে গুদামগুলোতে এই মরণাস্ত্র মজুত করা আছে বা যে লঞ্চার দিয়ে এগুলো ছোঁড়া হয়, সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন একমাত্র পথ। যুক্তরাষ্ট্র ‘নির্দিষ্ট এবং সীমিত প্রতিরক্ষা স্বার্থে’ আমাদের ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের যে অনুরোধ জানিয়েছে, আমরা তা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
ব্রিটেনের এই সামরিক সহযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে স্টারমার নিরীহ মানুষের জীবন রক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান এমন সব দেশে হামলা চালাচ্ছে যারা এই সংঘাতের সাথে জড়িতই নয়। এই অস্থিরতা বন্ধ করতেই ওয়াশিংটনকে এই বিশেষ সামরিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে লন্ডনের এই পদক্ষেপ পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, লন্ডনের এই প্রত্যক্ষ সহযোগিতার পর তেহরান তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না, নাকি সংঘাতের এই বলয় ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সূত্র: বিবিসি