মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন ও চরম উত্তেজনার মোড়ে দাঁড় করিয়ে ইসরায়েল অধিকৃত জেরুজালেমে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। রোববার (১ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে যে, তেহরান থেকে ছোঁড়া একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি সরাসরি পবিত্র এই নগরীর কেন্দ্রস্থলে আছড়ে পড়েছে। ইসলামের প্রথম কিবলা ও তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের এই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র পতনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
আল জাজিরার মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পূর্ব জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানার ঠিক আগ মুহূর্তে শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকট শব্দে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। মূলত ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব যুদ্ধের পর থেকে জেরুজালেম ইসরায়েলি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে এই পবিত্র ভূমি সবসময়ই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ঐতিহাসিক ও আবেগজড়িত জনপদেই এবার সরাসরি যুদ্ধের আঁচ এসে লাগল।
জেরুজালেম কেবল একটি শহর নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর কাছে মক্কা ও মদিনার পর সবচেয়ে পবিত্র স্থান। এখানে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ ইসলামের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য সাক্ষী। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা যখন এমন এক আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছায়, তখন তা কেবল সামরিক সংঘাত থাকে না, বরং এক গভীর মানবিক ও ধর্মীয় সংকটে রূপ নেয়। ইরানের এই সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করছে যে, সংঘাতের সীমানা এখন আর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক রেখায় সীমাবদ্ধ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, জেরুজালেমের মতো স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানা এক চরম সতর্কবার্তা। তেহরান এর মাধ্যমে এটিই বোঝাতে চেয়েছে যে, ইসরায়েলের তথাকথিত ‘নিচ্ছিদ্র’ প্রতিরক্ষা বলয় এখন আর কোনো জনপদকেই সুরক্ষা দেওয়ার গ্যারান্টি দিতে পারছে না। জেরুজালেমে এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।
সূত্র: আলজাজিরা