ইরানের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের খবরে শোক আর বারুদের গন্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। রোববার (১ মার্চ) তেহরানের পক্ষ থেকে এই শোকাবহ সংবাদ নিশ্চিত করার পরপরই ইরান ছাড়িয়ে পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের লেলিহান শিখা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই দুঃসাহসিক অভিযানের বিরুদ্ধে জনরোষ রূপ নিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে।
রোববার সকালে খামেনির মৃত্যুর খবর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারের সাথে সাথেই স্থবির হয়ে পড়ে ইরান। রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোর রাজপথে নেমে আসেন লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ। হাতে প্রিয় নেতার ছবি আর চোখে জল নিয়ে তারা শ্লোগান দেন ‘প্রতিশোধের’। ইরানিদের এই শোক মুহূর্তেই রূপান্তরিত হয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভে, যা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে এক নতুন দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খামেনি হত্যার সবচেয়ে সহিংস প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে পাকিস্তানের করাচিতে। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে মার্কিন কনস্যুলেট অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের ভয়াবহ সংঘর্ষ বাধে। করাচি পুলিশের প্রধান সার্জন সুমাইয়া সৈয়দ নিশ্চিত করেছেন যে, কনস্যুলেটের ভেতর প্রবেশের চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতে অন্তত ৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো পাকিস্তানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও বইছে প্রতিবাদের ঝড়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরাকের শিয়া প্রধান প্রদেশগুলোতেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লক্ষ্ণৌতেও। সেখানে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেন। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও; রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে এই হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন।
খামেনির মৃত্যু কেবল একজন নেতার প্রস্থান নয়, বরং এটি পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিল। মুসলিম বিশ্বের এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের রেশ কেবল কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং রাজপথের এই ক্ষোভ যেকোনো সময় বড় ধরনের মহাযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, এনডিটিভি