মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় আকাশে বারুদের তেজ আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার জেরুজালেমের পশ্চিমাঞ্চলীয় বেইত সেমেশ এলাকায় একটি শক্তিশালী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানলে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ, যাঁদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যম এই প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলার পরপরই বেইত সেমেশ এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। মধ্য-ইসরায়েলের জনবহুল এই জনপদে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে মুহূর্তেই হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে। হতাহতদের উদ্ধারে এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে ঘটনাস্থলে অন্তত ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হোম ফ্রন্ট কমান্ডের বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সেখানে কাজ করছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ সামরিক হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
আকস্মিক এই হামলার পর মধ্য-ইসরায়েল ও জেরুজালেম সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আইডিএফ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি জনপদে আঘাত হানল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই প্রাণঘাতী হামলা ইসরায়েলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে। একদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সরাসরি যুদ্ধের ডামাডোল, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে এমন প্রাণহানি—সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলটি এখন এক অনিশ্চিত ও রক্তক্ষয়ী মোড়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। বেইত সেমেশ ছাড়াও মধ্য-ইসরায়েলের আরও কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পতনের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।