মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে পুনরায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মার্কিন সৈন্যদের কৌশলগত অবস্থান হিসেবে পরিচিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়। তবে সৌদির শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হামলা রুখে দিয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়াদ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রিয়াদের বেসামরিক বিমানবন্দর এবং মার্কিন বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি এই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কেন্দ্র হওয়ায় এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। উপসাগরীয় একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিশ্চিত করেছে যে, সৌদির প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম অত্যন্ত সফলতার সাথে ধেয়ে আসা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
রাজধানী রিয়াদের পূর্বাঞ্চলীয় বাসিন্দারা বিকেলের দিকে আকাশ কাঁপানো বিকট বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী এএফপি-কে জানান, তিনি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার উজ্জ্বল দৃশ্য দেখেছেন এবং প্রচণ্ড শব্দ শুনেছেন। তবে এই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যেও রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে না পড়ায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
ইরান ও সৌদির মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও, এবারের হামলা রিয়াদের জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদের আকাশসীমায় এই মুহুর্মুহু হামলা কেবল সৌদিকে নয়, বরং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন শক্তির ওপরও এক ধরনের চাপ তৈরির কৌশল। যদিও রিয়াদ এখন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, তবে এই ঘনঘন আক্রমণ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক শান্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: এএফপি