ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক সামরিক অভিযানের পর বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন অচলাবস্থা। যুদ্ধাবস্থার কারণে এই সরু জলপথটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় পারস্য উপসাগরের মোহনায় অন্তত ১৫০টি বিশালাকার জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার নোঙর করে দাঁড়িয়ে আছে। রোববার (১ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্যের এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকা পড়া জাহাজগুলোর বিশাল অংশই অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছে। কেবল পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখেই নয়, প্রণালির অপর প্রান্তেও কয়েক ডজন জাহাজ গভীর সমুদ্রে নোঙর ফেলেছে। যুদ্ধের তাণ্ডবে যেকোনো মুহূর্তে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় জাহাজ মালিক ও বিমা কোম্পানিগুলো এই পথে চলাচলের ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের পাশাপাশি আকাশচুম্বী হবে মুদ্রাস্ফীতি।
শুধু খনিজ তেল নয়, এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বড় ধরনের শিল্পকারখানাগুলো স্থবির হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে এর নেতিবাচক প্রভাব এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপের শিল্পোন্নত রাষ্ট্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। হরমুজ প্রণালির এই ‘ট্রাফিক জ্যাম’ এখন কেবল একটি নৌ-সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।