ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আঁচ এবার এসে লাগল সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে। তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে মরুপ্রদেশটি। এই হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশিসহ মোট তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গালফ নিউজ’ ও আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে সোমবার (২ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই বহুমুখী আক্রমণে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। রুটি-রুজির সন্ধানে পরবাসে থাকা এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণহানি প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। হামলায় আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন আছেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান থেকে ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৪১টি আত্মঘাতী ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরাত। এর মধ্যে দ্বিতীয় দিনের সকাল পর্যন্ত ছোড়া হয়েছে অন্তত ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে এবং বাকি ১৩টি সমুদ্রে পড়েছে। অর্থাৎ, কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানেনি।
তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ড্রোনের আঘাতে বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩১১টি ড্রোন ধ্বংস করা হলেও অন্তত ২১টি ড্রোন লোকালয়ে আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।
ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক কেন্দ্রে হঠাৎ এমন যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, কিন্তু ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি ও অন্য প্রবাসীদের মৃত্যু ও আহতের খবর পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এই সংবাদ এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে এনেছে।
সূত্র: গালফ নিউজ